বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চ কমপ্লিট [ গাইডলাইন ]

সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাঙ্কিং এ আসার জন্য অন্যতম উপায় হল কিওয়ার্ড রিসার্চ। আপনার ব্লগ সাইটটি যদি সার্চ ইঞ্জিনে খুজে না পাওয়া যায়, তাহলে আপনার লেখা আপনি ছাড়া আর কেওই পড়বে না। কিওয়ার্ড রিসার্চ অনেক ব্যায়বহুল ব্যাপার। 

কিন্তু আপনারা টাকা খরচ করতে রাজি না। কিভাবে কোন টাকা খরচ না করে সহজে ব্লগ সাইটের জন্য বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চ করবেন তা প্র্যাকটিকেলি দেখানো হয়েছে এই পোস্টে।

বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চ কিভাবে করবেন?

প্রথমে একটি নির্দিষ্ট বিষয় ঠিক করুন। ধরা যাক, আপনি একজন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ। বিভিন্ন রকমের সবজি এবং ফলমূল আপনার খুব পছন্দের খাবার। এমনকি আপনি বাগান করতেও আপনি খুব পছন্দ করেন। এবং আপনি ঠিক করে নিয়েছেন আপনার ব্লগে এগুলো নিয়ে লেখালেখি করবেন। 

এবার আপনাকে ব্রেইনস্টর্মিং চালাতে হবে। নিজে নিজে চিন্তা করুন, মানুষ কি কি লিখে গুগলে সার্চ করতে পারে। এসব বিষয়ে আসলেই মানুষের ইন্টারেস্ট আছে কি না তা দেখতে গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার এ চলে যান।

দেখুন আমি নিজে আমার ব্লগে কন্টেন্ট লেখার জন্য কিভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করি, বা রিসার্চ করবেন?

স্বাথ্য বিষয়ক ব্লগ সাইটের জন্য আজকে আমি কলা সম্পর্কে লিখব ঠিক করলাম। এবার আমি প্রথমে গুগল সার্চ বারে কলার উপকারিতা লিখলাম। সাথে সাথে গুগল আমাকে বেশ কিছু কিওয়ার্ড দেখাল, যেগুলো লিখে মানুষ গুগলে সার্চ করে এদের বলা হয় গুগল সাজেসটেড কিওয়ার্ড এখান থেকে একটি কিওয়ার্ড কপি করে নিয়ে গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানারে চলে গেলাম।

এটি কিভাবে কাজ করে?

এখান থেকে সবগুলো কিওয়ার্ড কপি করে এক্সেল শিটে নিয়ে যাবেন। তারপর একটা একটা কিওয়ার্ড নিয়ে গুগলে সার্চ করবেন। আপনার ব্লগ সাইটটি যদি একেবারে নতুন হয়, তাহলে সবচেয়ে কম সার্চ ভ্যালুর কিওয়ার্ড গুলো নিন। কারণ হাই সার্চ ভ্যালুর কিওয়ার্ড গুলোর কম্পিটিশন লেভেল ও অনেক বেশি হবে।

হাই কম্পিটিটিভ এবং হাই সার্চ ভ্যালুর কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করতে গেলে প্রথম অবস্থায় র‍্যাংকে আসতে পারবেন না। এতে আপনি হতাশ হয়ে যাবেন এক সময়। তাই লো সার্চ ভ্যালু এবং লো কম্পিটিটিভ কিওয়ার্ড গুলো নিয়ে কাজ করা শুরু করুন। যখন দেখবেন আপনার দুই একটা কন্টেন্ট র‍্যাংকে চলে এসেছে, তখন আপনার কনফিডেন্স লেভেল অনেক বেড়ে যাবে। চলুন দেখি,

কিওয়ার্ডের কম্পিটিশন কিভাবে রিসার্চ করবেন?

কম্পিটিশন রিসার্চ করার জন্য আপনি গুগলে র‍্যাংক করা প্রথম ১০টি ওয়েবসাইট চেক করুন। ১০ এর পরে কারা আছে তাদের দেখার কোন প্রয়োজন নেই। আপনার টার্গেট হলো সার্চ রেজাল্টের প্রথম পেজে আপনার কন্টেন্ট নিয়ে আসতে হবে। তারপর প্রথম পজিশনে।

আপনি একটি কিওয়ার্ড নিয়ে সার্চ করার পর যে ১০টি ওয়েবসাইট দেখতে পাবেন, তাদের মধ্যে কোনগুলো কে আপনি খুব সহজে টপকাতে পারবেন তা দেখুন। নিচের লিস্টে দেয়া আছে কোন কোন ওয়েবসাইট কে আপনি পিছনে ফেলতে পারবেন।

সার্চ রেজাল্টে উপরের লিস্টের কোন একটা যদি দেখতে পান তাহলে মনে করবেন একে আপনি পিছনে ফেলতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে এরাও আপনার কম্পিটিটর।

এরপর আপনি ১০টা ওয়েবসাইট একটা একটা করে ওপেন করে। তাদের কন্টেন্ট গুলো পড়বেন। চেক করবেন তাদের কন্টেন্ট কোয়ালিটি কিওয়ার্ডের জন্য কন্টনেট পরিপূর্ণ কি না। কিওয়ার্ড ইন্টেন্ট ফলো করেছে কি না, কন্টেন্ট আপডেটেড কি না।

কন্টেন্টের মধ্যে অতিরিক্ত কিওয়ার্ডের ব্যবহার আছে কি না। এরকম কিছু যদি দেখতে পান তাহলে বুঝবেন লো কোয়ালিটি কন্টেন্ট, এই ওয়েবসাইটকে আপনি পিছনে ফেলতে পারবেন।

তারপর আপনি চেক করবেন কিওয়ার্ডের জন্য ১০টার মধ্যে কয়টা নিশ সাইট আছে। যদি এরকম সাইট দেখতে পান যে, সাইটে এই কিওয়ার্ডের রিলেভেন্ট কোন কন্টেন্ট নাই, তাহলে এই সাইটকে আপনি পিছনে ফেলতে পারবেন।

এগুলো চেক করার সময় আপনি আরো কিছু জিনিস লক্ষ করবেন। ওয়েবসাইটের স্পিড কেমন, ইউজার ফ্রেন্ডলি কি না, ডিজাইন আকর্ষনীয় কি না, প্রগেসিভ ওয়েব এপ ব্যবহার করেছে কি না। এখানে যদি উইক পয়েন্ট গুলো খুঁজে পান, তাহলেও আপনি ধরে নিতে পারেন এই ওয়েবসাইটে আপনি পিছনে ফেলতে পারবেন।

শুধুমাত্র এই কয়েকটা প্যারামিটার চেক করেই আমি কিওয়ার্ড সিলেক্ট করি। বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চের জন্য এইটুকুই আপনার জন্য যথেষ্ট।

যারা ব্লগে এডসেন্সের মাধ্যমে আয় করেন তাদের জন্য কিওয়ার্ডের সিপিসি ভ্যালু চেক করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা আপনার এডসেন্সের আর্নিং সম্পূর্ণ ভাবে নির্ভর করে এডভার্টাইজার দের এড কস্টের উপর। আপনাকে দেখতে হবে ওই কিওয়ার্ডের জন্য এডভার্টাইজাররা গুগলে ক্যাম্পেইন রান করার জন্য প্রতি ক্লিকে কত ডলার খরচ করছে।

এর জন্য আমি আপনাকে নাসির উদ্দিন শামীম ভাইয়ের ভিডিওটি দেখার জন্য সাজেস্ট করব। ভিডিওটি নিচে দেয়া হলো। এটি দেখলে পুরো বিষয়টি আপনার আরো ক্লিয়ার হয়ে যাবে। তবে যারা এডসেন্স ব্যবহার করছেন না, তাদের এই ভিডিও দেখার প্রয়োজন নাই।

আমি আশা করছি, আপনি বাংলা কিওয়ার্ড রিসার্চ কিভাবে করবেন তা খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন এবং বিষয়টি শিখতে পেরেছেন।

এই বিষয়ে আরো কিছু জানতে চাইলে অবশ্যই কমেন্ট করুন। আমার দেয়া গাইডলাইন ফলো করে আপনি যদি সাকসেসফুল কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারেন এবং সিলেক্ট করা কিওয়ার্ডের উপর হাই কোয়ালিটি কন্টেন্ট লিখতে পারেন ।

এবং নিয়মিত রিলেভেন্ট কন্টেন্ট পাবলিশ করতে পারেন তাহলে আমি আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আপনার কন্টেন্ট গুগলের টপ পজিশনে নিয়ে আসতে পারবেন।

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.

Related Articles